বিশ্বের তিন প্রধান ধাতু এক্সচেঞ্জে সম্প্রতি তামার মজুদ ২০০৩ সালের পর প্রথমবারের মতো ১১ লাখ টনের ওপরে পৌঁছেছে। তবে সরবরাহ বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে এখনো ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ধাতবপণ্যটির বাজার। এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
গত বছর বিশ্বের প্রধান তামা ব্যবহারকারী দেশগুলোর আমদানিতে শুল্ক-সংক্রান্ত উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। একই সময় লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জ (এলএমই) ও সাংহাই ফিউচার্স এক্সচেঞ্জের (এসএইচএফই) গুদামেও ধাতবপণ্যটির মজুদ দ্রুত বেড়েছে। এমনকি জানুয়ারি শুরুর পর বিশ্বের বিভিন্ন এক্সচেঞ্জগুলোয় তামার মজুদ প্রায় তিন লাখ টন বেড়েছে। এ বিষয়ে খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মজুদ বৃদ্ধির এ প্রবণতা অতিরিক্ত দামের কারণে উৎপাদন ও শিল্প ব্যবহার কমে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত।
তারা আরো জানান, গত অক্টোবরের পর প্রথমবারের মতো শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জ (সিএমই) গুদামে তামার মজুদ কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে আমদানিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত জুন পর্যন্ত স্থগিত রাখার কারণে সিএমইতে তামার দাম লন্ডনের দামের তুলনায় বেশি ছিল। ব্যবসায়ীরা এ সুযোগ ব্যবহার করে অনেক তামা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছে। এতে দেশটির বাজারে তামার সরবরাহ বাড়লেও বিশ্বের অন্যান্য বাজারে ঘাটতি দেখা গেছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।
২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পরিশোধিত তামা আমদানির পরিমাণ ছিল ১৪ লাখ ৫০ হাজার টন, যা আগের বছরের তুলনায় ছয় লাখ টন বেশি। এর বড় অংশই সিএমই গুদামে সরবরাহ করা হয়েছে।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রিমিয়ামের (সংযোজিত মূল্য) প্রভাবে চীনের কাস্টমস অনুমোদিত বিশেষ গুদাম থেকে দুই লাখ টন তামা সরানো হলেও তা বাজারে তেমন ঘাটতি তৈরি করেনি। সাংহাই ফিউচার্স এক্সচেঞ্জে জানুয়ারির শুরু থেকে তামার মজুদ ১ লাখ ২৭ হাজার টন বেড়ে ২ লাখ ৭২ হাজার ৪৭৫ টনে পৌঁছেছে। স্থানীয় তথ্যানুযায়ী, ইয়াংশান প্রিমিয়াম জানুয়ারিতে ১৮ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ২২ ডলারে নেমেছে।